আমি একটি শিক্ষা বিষয়ক মোবাইল অ্যাপ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি। অ্যাপটি হলো বাচ্চাদের শিক্ষামূলক অ্যাপ।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, আমি সফট-টেক নামক একটি সফটওয়্যার কোম্পানিকে অ্যাপটি ডেভেলপমেন্টের দায়িত্ব প্রদান করি ৯-১১-২০২৪ তারিখে। আমাদের মধ্যে মোট ৬৫,০০০ টাকা মূল্যের একটি চুক্তি হয় এবং কোম্পানির পক্ষ থেকে ৭০ দিনের মধ্যে অ্যাপ ডেলিভারি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
তাদের পেমেন্টের শর্ত ছিলঃ
35% Payment for Project Advance
35% Payment for Project Design
30% due payment within 5 days after completing the full project Development
চুক্তিপত্রটা ছিল তাদের তৈরি করা।
তো আমি তাদের সাথে কথা বলে তাদের অফিসে গিয়ে নগদ ১৫,০০০ টাকা দিয়ে কাজটা শুরু করে দিতে বলি। (এটার ভাউচার আছে; তারা তাদের মেইল থেকে আমার মেইলে পাঠিয়েছে) এরপর তারা কাজ তার পরদিন থেকেই শুরু করা হবে বলে আমাকে জানায়। তারপর তারা আমাকে কোনো কাজের আপডেট জানাতে পারে নি। যত বারই তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে, তারা বলে স্যারের সাথে কথা বলে জানাবো। এরপর ডিসেম্বরের শেষের দিকে তারা আমার সাথে যোগাযোগ করে বলে যে- 35% Payment Project Advance না দিলে তাদের স্যার নাকি কোনো আপডেট দিতে পারবে না।
“এমনই যদি হয়, তাহলে তারা আমাকে আরো আগে জানাতে পারতো যে টানা না দিলে আপডেট দেখানো যাবে না। আমি ম্যানেজ করে টাকা দিয়ে দিতাম।”
তো তাদের কথামতো আমি ৩১শে ডিসেম্বর টাকাটা বিকাশে পেমেন্ট করে দেই।
তো এই টোটাল ৩৫% টাকাটা আমি কাজের “ক” ও না দেখে পুরো পেমেন্ট করে দেই। যদিও তাদের চুক্তিতে এটাই লিখা ছিল যে ৩৫% অগ্রিম পেমেন্ট। (অনিচ্ছা শর্তেও স্বীকার করে নিলাম যে ভুলটা আমার)
এরপর থেকে তাদেরকে আমি ম্যাসেজের পর ম্যাসেজ এবং কলের পর কল দিলেও তারা রিপ্লাই করতো না। একজন মহিলাকে বসিয়ে রাখতো উনাদের অফিসের সামনে। উনি নাকি আমার প্রজেক্ট ম্যানেজার।
উনার নাম্বার- ০১৮৮৬০৮৮৯৯৩। আমাকে সকল আপডেট নাকি তার কাছ থেকেই জানতে হবে। তো তাকে হাজারটা ম্যাসেজ দেয়ার পরেও সে একটাই উত্তর দেয়।
“স্যার অফিস এ নাই। এটা তো আমি জানি না স্যার। আবির স্যার জানে, (আবিরই ম্যানাজিং ডিরেক্টর, তার সাথেই আমার চুক্তি এবং কথা হয়েছে, তার কাছেই প্রজেক্টের দ্বায়িত্ব দিয়ে এসেছিলাম)
– তো আবির স্যারকে জিজ্ঞ্যাস করুন।
– উনি তো ফোন ধরে না স্যার।
– তাহলে আমি আমার কাজের আপডেটটা কার কাছে পাবো?
– সেটা তো আমি জানি না স্যার।
এভাবেই চলছিল। তাদেরকে হাজারটা মেসেজ দেয়ার পরও রেস্পন্স করতো না, আর যখনই করতো- সেই একই উত্তর। একই কথা। আমার মনে মনে ভয় হওয়া শুরু করতে লাগলো।মার্চ মাসের ১২ তারিখে একদিন এই মহিলাটি বলল যে ০১৮৮৬০৮৮৯৯২ এই নম্বরে যোগাযোগ করতে। এটা ফারিয়া ম্যাডামের নাম্বার। উনিই নাকি এখন থেকে আমার প্রজেক্ট ম্যানেজার।তো আমি ১২ তারিখ- সেদিনই তৎক্ষণাৎ তাকে মেসেজ দেই। উনাকে জিজ্ঞেস করি আমার কাজের আপডেটা সম্পর্কে আমি জানতে চাচ্ছি। উনি আমাকে বলে উনি টেকনিকাল টিমের সাথে কথা বলে জানাচ্ছে।
১৩- তারিখ রেস্পন্স নেই,
১৪- তারিখ মেসেজ দিয়ে বলে রবিবার (১৬ তারিখ) জানাতে পারবে।
১৬- তারিখে মেসেজ দিলে রেস্পন্স নেই,
১৭- তারিখে মেসেজ দিলে রেস্পন্স নেই,
১৮- তারিখে মেসেজ দিলে রেস্পন্স নেই,
১৯- তারিখে মেসেজ দিলে রেস্পন্স নেই,
২০- তারিখও চলে যায়, খবর নেই
২১ তারিখে আমাকে মেসেজ দিয়ে বলে স্যার একটু তাইম লাগবে কয়েকদিন, ডেভেলপার টিম কাজ করছে। আমি সকালে অফিসে আসতে চাইলে আমাকে বলে সকালে নাকি তাদের আবির স্যার থাকেন না।
২৫ তারিখে উনি আমাকে বলে যে আজকে মিটিং করার জন্য। আমি রাজি হয়ে যাই। কিন্তু সেদিন তারা মিটিং করতে পারেনা। পরের দিন মিটিং ডেট রাখে।
এরপর মার্চ মাসের ২৬ তারিখ অনলাইন মিটিং হয়। মিটিংয়ে আলাপ হয় যে কাজ নাকি তারা অনেকদূর করেছে। কিন্তু দেখাতে বললে তারা আমাকে একটা ডেমো দেখায়, যেটা দেখে আমি সাথে সাথে বুঝতে পারি যে এটা একটা ডাউনলোড করা টেমপ্লেট। যেটা ফ্রী অথবা পেইড এমন কিছু হবে। কিন্তু আমার প্রজেক্টে যা যা লাগবে। তার কিছুই নেই এখানে। আমি প্রশ্ন করলাম যে এখানে এসব অনেক ফিচার দেয়া যেগুলো আমার প্রজেক্টে নেই। উনি বললো যে এগুলো এডিট করা যাবে। সমস্যা নাই। যাই হোক একটা বড় সন্দেহ নিয়ে মিটিং শেষ করলাম। এখন পরের ৩৫% টাকা চাওয়া শুরু করে।
২ মাস ১০ দিনের ভেতর দেবে বলে… ৪ মাস ১৮ দিন পর যখন আমাকে জাস্ট একটা মুলা দেখিয়ে আবার ৩৫% টাকা দাবি করে। তখন আমি আকাশ থেকে পরি। কিন্তু ২২,৭৫০ টাকা অলরেডি দিয়ে দেয়ার পর তাদের সাথে আর কোনো তর্কে যেতে চাইনি বলে আমি তাদেরকে ১৫,০০০ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেই।
তো ঠিক দুইদিন পরই ২৮-০৩-২০২৫- বিকাশে ১৫,০০০ টাকা পাঠাই।
এরপর ১৫ এপ্রিল তারা আমাকে হঠাৎ মেসেজ দিয়ে বাকি ৭৭৫০ টাকা চাওয়া শুরু করে। বলে আমি এই টাকা পরিশোধ না করলে আমাকে কাজ আটকে থাকবে এবং কাজের কোনো আপডেট দেখাবে না। আমার কাছে তখন এক টাকাও হাতে নেই এমন অবস্থা। আমি বলি কাজ আটকে থাকবে কেন? নিচের স্ক্রিনশটে দেখতে পারবেন কি টোনে কথা বলছেন তিনি।
আমি ২৭শে এপ্রিল তাদের বাকি ৭,৭৫০ টাকা পরিশোধ করি বিকাশে।
তো এখন হয়ে গেলো আমার ৭০% পেমেন্ট কমপ্লিট। এখন বাকি টাকা আমি কাজ হাতে পাওয়ার পরে দিবো।
পেমেট দেয়ার পরপরই আমাকে বলা হলো যে শীঘ্রই আমার সাতেহ তাদের আবির স্যার মিটি করবে।
এরপর ৩০শে এপ্রিল থেকে ১৯ মে পর্যন্ত তারা আমাকে কাজটা দেখাবে বলে ঘুরাতেই থাকে। আমি খুবই ভীত হয়ে পরি। কারন আমার অনেক কষ্টে জমানো টাকা এগুলো। কিভাবে এগুলো ম্যানেজ করেছি আমি জানি। আমাকে দিনের পর দিন এভাবে ডেট দিয়ে হয়রানি করা হয়।
এরপর ১৯ মে তারা আমাকে জানায় যে আমি বাকি টাকা কবে দিতে পারবো? আমি বলি উনি যেদিন প্লেস্টোরে আপলোড দেবে- তার ১ সপ্তাহ এর মধ্যেই দিয়ে দেবো। উনি তখন আমাকে বলতে শুরু করলো যে তারা নাকি কনফিউজড। আমি নাকি তাদেরকে পেমেন্ট নিয়ে ঘুরিয়েছি।
২ মাস ১০ দিনের ডেলিভারি ডেটের জায়গায় তখন ৬ মাস ১০ দিন।
যাইহোক, উনাদের কাছে যেহেতু আমি জিম্মি হয়ে গেছি, আমি বললাম যে সময়মতো টাকা পেয়ে যাবেন।
এরপর একটানা জুলাই মাসের ২ তারিখ পর্যন্ত চলে গেল।
তারা আমার সাথে এর মধ্যে কিছুই দেখালো না। শূধু একের পর এক মিটিং এর ডেট আর ডেট। কোনো কিছুই নেই। অফিসে গিয়েও লাভ হয় না। উনাদের স্যার থাকেই না।
জুলাইয়ের ৪ তারিখ আমি তাদের নামে একটা জিডী করে আসি থানায়। ঠিক তার পরের দিন সকালেই সেই আবির স্যার আমাকে কল করে। আমাকে বলে যে আমার কাজ নাকি আরো ৬ মাস পর দেবে। পারলে যেন আমি কিছু করে দেখাই। আমিও বলি যে আমি রিফান্ড আদায় করে নেব ডেমারেজ সহ।
আমি তাদেরকে পর্যায়ক্রমে মোট ৪৫,৫০০ টাকা প্রদান করি, যা নিম্নরূপ:
৯-১১-২০২৪: নগদ ১৫,০০০ টাকা
৩১-১২-২০২৪: বিকাশ ৭,৭৫০ টাকা
২৮-০৩-২০২৫: বিকাশ ১৫,০০০ টাকা
২৭-০৪-২০২৫: বিকাশ ৭,৭৫০ টাকা
আমার ৭০% টাকা দিয়ে দেয়ার পরই কিন্তু তাদের কিছুদিনের মধ্যে আমার কাছে প্রজেক্টটা হ্যান্ডওভার করার কথা ছিল। কিন্তু তারা আমার অর্থ আত্মসাৎ করেছে। আমার সাথে প্রতারনা করেছে বলে আমি মনে করি।
সুযোগ থাকলে আমি এর দশগুন টাকা জরিমানা সহ আদায় করতে চাই। আমি মানসিক ভাবে অনেক ভেঙ্গে পরেছি।
৩টা নাম্বারের সাথে আমার যোগাযোগ হতো
০১৮৮৬০৮৮৯৯২
০১৮৮৬০৮৮৯৯৩
০১৮৮৬০৮৮৯৯৪
আর মেইন যে কাল্প্রিট- আবির আহমেদ শামীম
ওর নাম্বার হলো- 017 00-683 028